প্রচলিত হিন্দুধর্ম টা এখন মতাদর্শ হীন ফুর্তিবাজদের ধর্মে পরিণত হয়েছে।

কথায় আছে “বার মাসে তের পার্বণ”। প্রতি মাসে কোন না কোন পূজা লেগেই থাকে। কোনো কোনো পূজা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে উদযাপন করা হয়। কিন্তু এতো ধর্মচর্চা, এতো পূজার্চনা করার পরেও সবই যেন নিষ্ফল। কারণ পূজা মন্ডপের সংখ্যা বাড়লেও হিন্দুদের সংখ্যা দিনের পর দিন কমেছে। হিন্দুদের মধ্যে ধর্মান্তর হয় বেশি; ভ্রাতৃত্ব বোধ নেই বললেই চলে। কিন্তু কেন? কোথাও নিশ্চয় ফাঁকি আছে। আসলে হিন্দুরা যে ধর্মচর্চা করে, তার মাধ্যমে একটু আনন্দ-ফুর্তি, বিনোদন পাওয়া যায় বটে কিন্তু এই সব পূজাপাট আমাদেরকে যেটা দিতে পারে না সেটা হচ্ছে একক মতাদর্শ। কোন জাতি কিসের উপর ভিত্তি করে টিকে থাকে? মানুষ বাঁচে তার আদর্শের জন্য, এমনকি সে তার আদর্শের জন্য জীবনও দিতে পারে। যারা ধর্মহীন তাদেরও নিশ্চয় কোন আদর্শ আছে। কিন্তু প্রচলিত হিন্দুধর্ম টা এখন মতাদর্শ হীন ফুর্তিবাজদের ধর্মে পরিণত হয়েছে।

পূজায় সাধারণত হিন্দুরা কি করে? পূজার দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে, স্নান সেরে, পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে, খাওয়াদাওয়া করে। রাত হলে সাজগোছ করে বিভিন্ন স্থানের পূজা মান্ডপের চাকচিক্যময় প্রতিযোগিতা দেখে। পূজার শেষ দিন পর্যন্ত নাচগান, পূর্তি করে পূজার ইতি টানে। আধ্যাত্মিকতার চর্চা নেয় বলেই চলে। এমনকি পুষ্পাঞ্জলিতে যেসব মন্ত্র উচ্চারণ হয় তার অর্থও অধিকাংশ মানুষ জানেনা; সর্বসাধারণের কথা বাদ দিলাম, পুরোত মশাই জানে কিনা সন্দেহ। একবার ভেবে দেখেন! লক্ষ লক্ষ টাকা বিসর্জন দিয়ে পূজা থেকে হিন্দুরা কি পেয়েছে? কি শিক্ষা গ্রহণ করেছে? ধর্মের অর্থ যদি হয় ধারণ করা তবে এই সব পূজা থেকে হিন্দুরা কি ধারণ করছে? অনুকরণ যোগ্য কিছু আছে এই সব পূজায়? অন্তঃসারশূন্য এইসব ধর্মচর্চা করে, কোন লাভ নাই; সব অনর্থক।

আমি তো মনে করি প্রচলিত হিন্দু ধর্মটাই আমাদের জন্য অভিশাপ! শাক্ত, শৈব, বৈষ্ণব, গাণপত্য, তান্ত্রিক, সহজিয়া, অঘোড়ি, মতুয়া, নানান গুরুবাদ সহ অসংখ্য মতবাদ আছে; একটা মত আর একটা মতে সাথে সাংঘর্ষিক, একদম  বিপরীত। এমন কি নাস্তিক জৈন দের পর্যন্ত হিন্দুবলে দাবি করা হয়। এর মধ্যে কোনটা যে হিন্দুধর্ম সেটা বলাই দুষ্কর। পণ্ডিতদের মতে হিন্দু শব্দটাই কোন প্রামাণিক শাস্ত্রে নেই। যাইহোক! মোটকথা হচ্ছে হিন্দুধর্মের এমন কোন একক মতাদর্শ নাই; যা পৃথিবীর সকল মানুষকে একই সূত্রে আবদ্ধ করতে পারে। এই ধর্মের কোন মানদণ্ড নাই, কোন ভিত্তি নাই; তাই ভ্রাতৃত্ব বোধ আসাটাও কোন ভাবে সম্ভব নয়। এর থেকে সমাধানের পথ খুঁজতে হলে হিন্দুদের অবশ্যই শাস্ত্রপাঠ করতে হবে।

0/Post a Comment/Comments

যুক্তি সংগত কথা বলুন.................

Stay Conneted