যে দেশের রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম, যে দেশের ৯৯.৯% মানুষ তৌহিদী আর হেফাজতী ভাবধারার, যে দেশের ইসলামীঐক্যজোট আর হেফাজতীদের এককথায় স্কুলের পাঠ্যপুস্তক ইসলামীকরণ করা হয়।
সে দেশে যে এখনো বাদ্যযন্ত্র দিয়ে গান বাজনাচলে,
সে দেশে যে বয়াতী শরিয়ত সরকারকে ইসলামিক অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য এখনো ফাঁসি দেয়া হয়নি শুধু মাত্র জেলে দেয়া হয়েছে সেটাই বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়।
সৌভাগ্যের আরো বিষয় আছে যেমন- এই দেশে এখনো স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় আছে, আর সেইসব প্রতিষ্ঠানে এখনো মেয়েরা যেতে পারে, অদুর ভবিষ্যতে হয়তো সেই সুযোগ বিলুপ্ত হবে।
আর ধীরে ধীরে সেইদিকেই এগুচ্ছে দেশ।
খুব ধীরে খুব সুক্ষভাবে তৌহিদী আর হেফাজতীরা তাদের ভাবধারায় দেশটাকে দখল করে নিচ্ছে নিয়েছে।
ইসলামী ঐক্যজোট আর হেফাজতীদের দাবী ছিল স্কুলের
পাঠ্যপুস্তকে হিন্দু ধর্মের সাহিত্যিদের কোন লেখা থাকতে পারবে না।
পিএম তাদের কথা দিয়েছিল,এবং তিনি তার কথা রেখেছেন- প্রথমদফায় তার কিয়দংশ বাস্তবায়িত হয়েছিল।
বর্তমানে তার পুরোদফা বাস্তবায়ন হলো!!
নবম শ্রেণির বাংলা বই ‘সাহিত্য সংকলন’ থেকে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’ ও জ্ঞানদাসের ‘সুখের লাগিয়া’, ভারতচন্দ্রের ‘আমার সন্তান’, লালন শাহের ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্বাধীনতা’ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সাঁকোটা দুলছে’ বাদ দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে শাহ মোহাম্মদ সগীরের ‘বন্দনা’, আলাওলের ‘হামদ’, আব্দুল হাকিমের ‘বঙ্গবাণী’, গোলাম মোস্তফার ‘জীবন বিনিময়’ ও কাজী নজরুল ইসলামের ‘উমর-ফারুক’।
অষ্টম শ্রেণির বাংলা দ্রুতপঠন আনন্দপাঠ থেকে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ‘রামায়ণ-কাহিনি’ বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সপ্তম শ্রেণির বাংলা বই সপ্তবর্ণাতে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘লাল ঘোড়া’ বাদ দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে হবীবুল্লাহ বাহারের ‘মরু ভাস্কর’। অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণির দ্রুতপঠন আনন্দপাঠ থেকে শরৎচন্দ্রের ‘লালু’ ও সত্যেন সেনের ‘লাল গরুটা’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলাদেশের হৃদয়’ বাদ দেওয়া হয়েছে।
আমি অবাক হবে না হিন্দু কবির লেখা জাতীয় সংগীত যদি বদলে দেয়া হয়, বরং অবাক হই কিভাবে এখনো কোন বিধর্মীর লেখা গান জাতীয় সংগীত হিসাবে আছে।
কবে যেন শুনি বাংলাদেশের নাম বদলে বাংলাস্তান করা হয়েছে।
আজকাল বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এই বিচ্ছিন্ন জনপদ
আমার দেশ!!
Post a Comment
যুক্তি সংগত কথা বলুন.................