ঈশ্বর এবং দৈব নীলার উপাখ্যান
চারিদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আর মানুষের অনন্ত চাহিদা এক অস্থিরতার পরিস্থিতি সৃষ্টি করিল।মানুষ প্রবল অশান্তিতে ত্রাহি ত্রাহি করিতে লাগিল।এক পর্যায়ে ঈশ্বরের কাছে আকুল আবেদন করিতে লাগিল ,"আমাদের এই সংকট থেকে বাঁচাও প্রভু "
সদাপ্রভু বলিলেন -হু
কিয়ৎ কাল পরে বণিক শ্রেণী আসিয়া তাহার সমীপে ফরিয়াদ করিলো-রাষ্ট্রপ্রধানদের জ্বালায় অস্থির।এরা আমাদের টিকতে দিচ্ছে না।প্রভু কিছু করুন "
ঈশ্বর বলিলেন –হু
ছাত্র ছাত্রীগণ তাহাদের পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য আবেদন করিল " প্রভু , পাশ করিয়ে দাও ,ভালো ফল দাও , তোমাকে খুশি করে দেবো "
ঈশ্বর বলিলেন -হু
বেকার সম্প্রদায় কহিল “হে প্রভু,আমাদের চাকরি দাও,এই জ্বালা তো সয় না!”
ঈশ্বর বলিলেন -হু
চাকুরিজীবি আর্তনাদ করিতে লাগিল “প্রভু,এই বেতনে তো চলে না,রক্ষা করো “
ঈশ্বর বলিলেন -হু
শাসক দল বিরোধী দলের সম্পূর্ণ পরাভব চায়, স্বীয় ভজনালয়ে ঈশ্বরের স্বঘোষিত বিবিধ যোগাযোগকারী পুরোহিত /মোল্লা /যাজক ইত্যাদির মাধ্যমে আবেদন করিলো "পুরো সাফাই করে দাও প্রভু "
ঈশ্বর বলিলেন –হু
দরিদ্র কৃষক তাহার ফসলের দাম না পাইয়া আকুল আবেদন করিতে লাগিল "প্রভু , রক্ষা করো "
ঈশ্বর বলিলেন -হু
বিরোধীদল আবেদন করিতে লাগিল “রক্ষা করো হে নাথ,আমাদের এই রোজের সর্বনাশ থেকে “
ঈশ্বর বলিলেন -হু
নারী এবং শিশুগণ অত্যাচারিত হইয়া হাত তুলিয়া প্রবল ত্রাসে তাহাকে ডাকিতে লাগিল " দয়াল,জান আর মান বাঁচাও !"
ঈশ্বর কহিলেন -হু
ক্ষয়িষ্ণু বামপন্থী সম্প্রদায় বলিল "তুমি আছো প্রমান দিতে আমাদের রক্ষা কর অস্তিত্ব বাঁচিয়ে '
ঈশ্বর কহিলেন -হু
ডানপন্থী তথা স্বঘোষিত ঈশ্বরপন্থী রাজনৈতিক দল সমূহ বলিল "আমরা তোমার মহিমা তুলে ধরি আর আমাদের এই সংকটে কেন ফেলছো? আমাদের পরিত্রান করো প্রভু "
ঈশ্বর বলিলেন -হু
নাস্তিক বলিল "তোমাকে ছাড়াই আমাদের দিব্বি চলে , এবার তুমি ভাগো "
ঈশ্বর বলিলেন -হু
মধ্যপ্রাচ্যে এবং অন্য অংশে দাবি উঠিল " নাসারা বিধর্মীদের খতম করো " একই সুরে ইহাদের বিপরীত মেরুর পশ্চিমে আবেদন উঠিল "এই শয়তানের দোসরদের খতম করো "
ঈশ্বর বলিল -হু
অতঃপর কিঞ্চিৎ দম লইয়া ঈশ্বর তাহার পার্শের প্রতিবেশী ব্রহ্মাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, " আপনার সৃজন করা এই জগতে ভালো রত্ন মানে অতীব উন্নত নীলা প্রস্তর আছে?শুনেছি,একাধিক এই ধরনের অযুত নিযুত তারকা আছে যা এই রত্নে তৈরী হয়েছে "
ব্রহ্মা কহিলেন, "হ্যা,সদাপ্রভু,আছে, কেন বলুনতো?"
ঈশ্বর কহিলেন, "আমার একটু দরকার। দেবেন কি?"
ব্রহ্মা(পঞ্চমুখে), বলিল "লিচ্চয় ! লিচ্চয় "
ইহার পরে ইশ্বর,ব্রহ্মার আনীত সেই বিশেষ নীলা শুদ্ধ বস্ত্রে ,স্নান করিয়া পরিধান করিলেন এবং প্রবল বামপন্থী এবং সাম্যবাদী মহাজাগতিক জ্যোতিষ মাতা ‘আ-চার্জ-এ–দেব-নিলা’ বিন শাস্ত্রী কে বিনয়ের সহিত কহিলেন, "দেবী, তুমি বলেছিলে আমার শনির দশা কাটাতে এখনই এই নীলা নেওয়ার কথা, আবার তুমিই বলেছিলে নীলা নাকি অতীব মারাত্মক তাই এর বিপরীত ফলাফল ও হয় ঠিক ভাবে ধারণ না করলে।এখন তোমার ভরসাতেই এই নীলা পরিধান করে নিলাম।এই টেনশন আর নেওয়া যাচ্ছে না।একটু ভরসা দাও ।"
‘আ-চার্জ-এ–দেব-নিলা’ বিন শাস্ত্রী বরাভয় দেখাইয়া কহিলেন –তথাস্তু!
বি:দ্র-বনফুলের বিধাতা গপ্পের প্যাচে একটু অন্য কিছু লিখলাম।বাস্তবের কারোর সাথে মিল থাকলে লেখক দায়ী না।যথারীতি,পথ প্রদর্শক গুরুদের পথ ধরে লিখিত।
পুনশ্চ: ইশ্বরের কথা সর্বদা সঠিক,এই রূপ রত্নের সমাহারে ভরা গ্রহের কথা ইদানিং পাজি বিজ্ঞানীরা জানিতে পারিয়াছে,ইহার কারণে কিঞ্চিত তথ্যসূত্র দেওয়া হইলো।https://www.sciencealert.com/hot-super-earths-are-so-riddled-with-rubies-and-sapphires-they-may-shimmer
Post a Comment
যুক্তি সংগত কথা বলুন.................