(এক মহাগুরুর পথে চলে রচিত,যা করেন গুরু আমি নিমিত্ত মাত্র)
এক সুন্দর সকালে আদম তার স্বর্গীয় ঝুপড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে দেখলো অদূরে নন্দন কাননে মেলা লোক জমা হয়েছে।কিছুটা আশংকিত আদম ভিড়ের দিকে এগিয়ে গেল,ঈশ্বর বুড়ো প্রায়শই তাকে ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করে বলে গোপনে খবর পাওয়া ইস্তক তার রাতের ঘুম গেছে তাই আজকাল একটু আধটু এদিক ওদিকেই রক্ত চাপ বেড়ে যায়।
সামনে এগিয়ে সত্যিই আশ্চর্য হয়ে গেল সে।পুরো স্বর্গবাসী যেন জমা হয়েছে।কি ভিড় রে বাপ্!দু পা এগোতেই প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়।যাইহোক,একমাত্র বন্ধু জিব্রাইল কে স্মরণ করতেই সে হাজির হলো।উৎকণ্ঠায় আদম প্রশ্ন করে "কি হয়েছে বন্ধু,এই সকালে এ কিসের মেলা ?”
জিব্রাইল কিছু তার জ্ঞানচক্ষু উন্মোচন করে দেয়।যারা এই জ্ঞানচক্ষু সমন্ধে অবগত না তাদের জন্য দূরদর্শনের উদাহরণ দেওয়া যেতেই পারে।স্বর্গীয় এই অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে সঞ্জয় পরে ধৃতরাষ্ট্র কে সরাসরি মহাভারতের যুদ্ধের ধারাবিবরণী দিয়েছিল।সেই পথে সে আদম কে ওই দৃশ্য দেখার ব্যবস্থা করে দিলো। আদম ক্লোজ আপে দেখলো দুটো পাশাপাশি জায়গায় এক দিকে সীতারামাইল এবং করাতাইল তাদের ছোট বড় বিস্তর নেতা নিয়ে বসে আর অপর পাশে একদল মধ্যবয়স্ক নানান রূপের মানুষ বসে আছে।
আদম জিব্রাইল কে জিজ্ঞাসা করলো , “বন্ধু , এই দুই পক্ষ পাশাপাশি কি কারণে? আর ওই অচেনা মধ্যবয়স্ক মানুষরা কারা?এরা কি কোনো নতুন বিপ্লবের জন্য ধর্না দিচ্ছে?”
জিব্রাইল বললো , " আরে বড় মজা হয়েছে,এই দুই দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা আয়োজন হয়েছে, আর এই কাজ করেছে ললিতাইল, সেই মহান বুকি স্বর্গ ক্রিকেটের সেই কেলেঙ্কারী মনে আছে?এখন দুই পক্ষই যেহেতু স্বর্গের বামদিকের মার্ক্সাইল এর শিষ্য তাই একই দিকে বসেছে।এইবার চারিদিকে তাকিয়ে দেখো "
আদম অবাক হয়ে দেখলো ভিড়ের মধ্যে এক দল লোক স্বর্গবাসীর থেকে টাকা তুলছে।আরো অবাক হয়ে সে বললো " কিসের টাকা ,কি বিষয়!এই মাঝবয়েসী লোকগুলোই বা কে ?"
"আরে ওই যাদের মাঝবয়েসী ভাবছো এরা হলো ছাত্র ছাত্রী, ওরা স্বর্গের জহরলাইল শিক্ষাপ্রাঙ্গনে বহুকাল যাবৎ পড়াশোনা করে আর ওই টাকা আসলে একটা বাজির মানে জুয়ার টাকা।স্বর্গবাসী উৎসাহের সাথে দিচ্ছে " জিব্রাইল প্রাঞ্জল করে।
আদমের সংশয় তবু যায় না , বলে "সে তো বুঝলাম,কিন্তু জুয়া কিসের ?"
"বন্ধু ,বুঝলে না!এই দুই দলের মধ্যে কে আগে তাদের আসন ছেড়ে উঠতে পারে তাই নিয়ে বাজি, ইশ্বর এসে এই ফলাফল ঘোষণা করবেন " জিব্রাইল বিস্তারে বলে
আদম এইবার উৎসুক হয়ে বলে ,"এই ফলাফল কি ভাবে ঘোষণা হবে? এ তো অনেক সময়ের বিষয়!"
জিব্রাইল খেঁকিয়ে ওঠে " আরে খেলে যা!তুমি আইনস্টাইনাইল এর তত্ব কি কিছুই জানো না!সময় একটি মাত্রা আর ইশ্বরের কাছে কাল কোনো ব্যাপারই না তাই ঈশ্বর এক নিমেষেই এর ফলাফল বলে দিতে পারে,বস সময় নিচ্ছে।স্বর্গের কোনো অর্থনৈতিক লাভ আছে বোধহয় ,তুমি তো জানো ঈশ্বর সর্বজ্ঞ "
আদম কিঞ্চিৎ রাগের সাথে বলে "বুড়ো অতীব ঘোড়েল, বাজির টাকার বাজার চাঙ্গা করছে আর অন্য দিকে এই জুয়া না খেলার জন্য আবার নির্দেশ দেয়!পুরো ফোর টোয়েন্টি ! "
আহা!আস্তে আস্তে!এই সব বললে তোমার সাথে আমাকেও বস তরি-পাড় করতে পারে!মারবে নাকি! " জিব্রাইল ঘাবড়ে যায়।এরপরে কিছু মুহূর্ত চুপ করে বলে “অবশ্য,ভুল কিছু বলো নি,ওই নিউটনাইলের সেই তত্বগুলো দেখো,এক নম্বর তত্বটা “
আদম থথমত খেয়ে বলে “ইয়ে মানে তুমি তো জানো আমার জন্য এই সব পড়া নিষিদ্ধ “
জিব্রাইল উদার ভাবে বলে “আফসোস,অবশ্য ইশ্বর তাই চেয়েছে,যাই হোক,ওই নিউটনাইল তিনখানা ফরমান দিয়েছিল,এর প্রথমটা হলো বাইরের কোনো বল না প্রয়োগ করলে স্থির বস্তু স্থির থেকেই যাবে,এখন বাইরের বল প্রয়োগ বলতে ইশ্বর,তিনি তো প্রয়োগ করার কোনো চেষ্টাই করছেন না,সে হিসেবে তোমার কথা ফেলে দেওয়া যায় না,এখন কথা হচ্ছে এই বল প্রয়োগ না করলে কতক্ষন এই দুই দলের কে বা কারা আগে উঠবে তা বোঝা যাচ্ছে না”
আদম দেখল স্বর্গের লোকজন কেউ এই সিতারামাইল আর করাতাইল আবার কেউ বা ওই অপর অংশের জ্ঞানতাপস আর তপস্বিনীদের উপরে বাজি ধরছে।
উৎসুক আদম জিব্রাইল কে জিজ্ঞাসা করলে "তুমি কার উপরে বাজি ধরলে হে ?"
জিবরাঈল সংশয়াচ্ছন্ন মুখে বললো “এখনো ঠিক করতে পারি নি।ওই সীতারামাইল ইত্যাদির সুনাম থাকতে পারে তবে অপর পক্ষ কম যায় না।বহু যুগ এরা অনড় হয়ে রয়ে গিয়েছে জহরলাইল এর স্বর্গ শিক্ষায়তনে। স্বয়ং ঈশ্বরের কোতোয়াল ও পারে নি এদের নড়াতে।“
আদম এইবার নিজেও সংশয়ে পড়ে স্বগতোক্তি করে "হিসাবে তো বলে ওই পুরোনো ঘোড়ার উপরেই বাজি ধরা,স্বয়ং ঈশ্বর ও পারে নি এদের গদি থেকে তুলে দিতে।পশ্চাতে কোন মহাজাগতিক আঠা লাগিয়ে এরা বসেছে তা শয়তানই জানে।আর তুমি তো বললেই যে ওই নিউটনাইলের অভ্রান্ত তত্বে বলছে বাইরের থেকে বল প্রয়োগ না করলে এদের কিছুই হবে না।এই অঞ্চলে কে এদের লাত্থাওষুধী দিয়ে গদিচ্যুত করবে? "
কয়েক মুহূর্ত গুম হয়ে থেকে,আদম একটু চেশায়ার ক্যাট মানে ওই চন্দ্রবিন্দু বেড়ালের মতো হেসে বলে " দাঁড়াও হে, আমি ও বাজি ধরি, আমার বাজি এই সীতারামাইল আর করাতাইল এর দল,তাদের এই বিষয়ে সুনাম প্রচুর!যাই বাড়ির থেকে আমার কাঁসার গাড়ু নিয়ে আসি বন্ধক দিয়ে খেলবো "
জিব্রাইল,নির্লিপ্তের মতো অন্য পক্ষের আশেপাশে থাকা স্বর্গ গণমাধ্যমের নানান দূরদর্শনের যন্ত্র আর বার্তাবক তদুপরি মহান প্রণয়াইল এবং সুমোনাইল এর দিকে নির্দেশ করে।
আদম অবাক হয়ে দেখে এই অজস্র গণমাধ্যমের অজস্র রথী তদুপরি এই দুই মহারথী তাদের পুরো যন্ত্র আর নিজেদের মনযোগ ওই মধ্যবয়স্ক তথাকথিত ছাত্র আর ছাত্রীদের উপরেই দিয়ে রেখেছে।
আদম কিছুক্ষণ সেই রদ্যার ভাস্কর্যের ধাঁচে চিন্তা করে বলে উঠলো “রসো!ভেবে দেখলাম এই বয়স্ক শিক্ষার্থীদের উপরে বাজি ধরলেও লস নাই ! “

Post a Comment
যুক্তি সংগত কথা বলুন.................