যাদের লেখা যে ইতিহাস আমরা পড়ি , তার প্রায় সবই মুলত গান্ধী এবং নেহেরুরু প্রতি পক্ষপাত দুষ্ট।

"লাল-বাল-পাল"
(আগের থেকে  লেখার ক্রমশ ভাগ)
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

যাদের লেখা যে ইতিহাস আমরা পড়ি , তার প্রায় সবই মুলত গান্ধী এবং নেহেরুরু প্রতি পক্ষপাত দুষ্ট। “গান্ধী” নামে যে ফিল্ম টা তৈরী করেছিলেন লর্ড এটেনবরো, সেই ফিল্ম এ ইন্দিরা গান্ধীর সরকার প্রচুর অর্থ ঢেলেছিলো। প্রায় তিন ঘন্টার ছবিতে কোথাও একবারের জন্যও নেতাজীর মুখ দেখানো হয়নি। পক্ষপাত দুষ্টতা একেই বলে।

গান্ধী দক্ষিন আফ্রিকা থেকে ভারতে আসেন ১৯১৪ সালে। তার আগে তিনি দক্ষিন ব্যাবসাতে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন। ব্রিটিশ তাকে খবরের কাগজে নানা গল্প ছাপিয়ে বিখ্যাত করে দিয়ছে। নেহেরু তখন সদ্য যুবক। গুরু খোজ করছেন রাজনিতী করার জন্য। জিন্না লন্ডনে। সুভাষ বোস দেশে আসেননি তখনো। মতিলালের কথা বিশেষ কেউ মানে না। এক মাত্র প্রতিদন্ধী দেশ বন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। 

দেশের আপামর জন সাধারন তখন স্বদেশী মন্ত্রে দীক্ষিত। ভারতমাতার শৃংখল মোচনে অকুতো ভয় । বেশীর ভাগ স্বদেশী মন্ত্রে, জীবন মরন সংগ্রামে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যুবক যুবতী জেলে, আন্দামানে। কিন্তু সাধারন মানুষ তাদের মনে স্বাধীনতার আগুন ধিকিধিকি করে জ্বালিয়ে রেখেছে। প্রয়োজন একটি স্ফুলিঙ্গের।

স্বাধীনতা লাভের এই অদম্য বাসনা বাহ্যিকভাবে দেখলে মনে হবে এই সংগ্রাম শুধুমাত্র ব্রিটিশ বিরোধী। কিন্তু সাধারন ভারতীয়দের অন্তস্থলের চাপা কষ্ট যদি অনুভব করার মতো মান্সিকতা বা অন্তদৃষ্টি থাকে তাহলে সেই দর্শনে ধরা পড়বে অন্য এক গভীর ক্ষতের যন্ত্রনা। কি সেই যন্ত্রনা??????? ৭১২ সাল থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে আরবী এবং তাদের তুর্কী দাসেরা যে ভাবে ভারতমাতাকে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত ধর্ষন করেছে সেই বর্বরতার বিরুদ্ধে কাতর যন্ত্রনা। নিজের দেশে, নিজের ধর্ম শিক্ষা ,কৃষ্টি ভুলন্ঠিত, নিজের স্ত্রী কন্যার অসম্মান, নিজভুমে পরবাসী, ধর্ম পালন করতে “জিজিয়া কর” , এই সবই ভারতের প্রতিটি হিন্দুর বুকে এক জ্বালার সৃষ্টি করেছিলো। সেই সংগে এর বিরুদ্ধে বা এর প্রতিকার করতে না পারার যন্ত্রনাও ছিলো প্রায় ৮০০ বছর ধরে।
অসভ্য মরুবাসী বর্বর আর বর্তমান আফগানিস্তান থেকে আসা উপজাতি দাসেরা যে লুন্ঠন, অত্যাচার ভারতের বৈদিক সন্তান্দের ওপরে করেছিলো, তার সঠিক ইতিহাস না লেখা হলেও, জনশ্রুতিতে তা মানুষের হ্রদয়ে গ্রথিত হয়েছিলো।  দেশ ভাগের ইতিহাস ৭১ বছরের, দেশের পরাধীনতা্র ইতিহাস ১০০০ বছরের। সালটা তাই মনে রাখতে হবে। একটি ৭১২ সাল আর একটি ১৭৫৭ সাল।    

 ইসলামিক বর্বরতায় ভারতীয় হিন্দু সমাজ হয়ে পড়ে দিশাহারা। ১০০০০ বছরের পরম্পরা, শিক্ষা দীক্ষা, সংষ্কার, ধর্মাচারন পদ্ধতি চোখের সামনে ভুলুন্ঠিত হতে থাকলো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হলো, প্রাচীন পুথি পুস্তক , জ্ঞান ভান্ডার পুড়িয়ে দেওয়া হলো, নিজেদের ধর্ম পালন করতে “জিজিয়া কর” দিতে হলো, চোখের সামনে হিন্দু দের জোর করে গলায় তরবারী ধরে ধর্মান্তরিত করা হলো। মা বোনেদের ধরে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন করা হয়ে দাড়ালো এক নিত্য ঘটনা। 
রুক্ষ মরুভুমির রুক্ষ মানসিকতার সঙ্গে হিন্দুরা মানিয়ে নিতে পারলো না, সম্ভব ও নয়। সমাজের অন্ত্যজ শ্রেনীকে রক্ষা করার মতো ক্ষাত্র শক্তি একে একে মিলিয়ে যেতে থাকলো। ৭১২ সাল থেকে ১৭৫৬ সাল অবধি, দীর্ঘ প্রায় ১০০০ বছর ধরে ক্রমাগত অত্যাচার এবং নিষ্পেসনের ফলে ‘হিন্দু সমাজ ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিলো। ভীত সন্ত্রস্ত হিন্দু সমাজে ঢূকে পড়লো নানা কুসংষ্কার। বিদ্বান ব্রাহ্মনেরা হলেন অশিক্ষিত ,লোভী। নিজেদের পেট বাচাতে শুরু হলো নিজের সমাজের হীন বল মানুষ গুলোকে শোষন করার নানা উপায় বের করা। যা ছিলো বর্ন প্রথা তা হয়ে গেলো জাতি প্রথা। এতে সমাজের ক্ষতি হলো আরো বেশী। 

ইংরেজী শাসনে হিন্দুরা ফিরে পেলো কিছু মান সম্মান, বন্ধ হলো ধর্মের নামে অত্যাচার অষ্টাদশ শতাব্দীতে হিন্দু সমাজের অনেকেই পেতে শুরু করলেন আধুনিক প্রগতিশীল শিক্ষার সুযোগ। পড়াশুনা করলেন ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তার দেশে ফিরে শুরু করলেন নতুন করে এক প্রগতিশীল হিন্দু সমাজ সংষ্কার। সেই সঙ্গে তারা বুঝলেন, পরাধীন হয়ে থাকলে হিন্দুদের পুর্ন ভাবে সভ্যতার আলোয় ফিরিয়ে আনা যাবে না। অজ্ঞানের অন্ধকার থেকে আলোর জগতে আনা যাবে না। (চলবে)

0/Post a Comment/Comments

যুক্তি সংগত কথা বলুন.................

Stay Conneted