ওনারা মোটেও মহানুভব ন'ন - চরম স্বার্থপর ও অর্থ-লোভী।

৯২ বছর বয়স্ক বুদ্ধিজীবী আব্রাম নোয়ান চমস্কি, রাশিয়া থেকে পালিয়ে এসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা ইহুদি দম্পতির সন্তান। ৯০ বছর বয়স্ক বিনিয়োগকারী জর্জ সরোস, হাঙ্গেরি থেকে পালিয়ে যুক্তরাজ্যে হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসে নাগরিকত্ব নেওয়া ইহুদি। এই দুই বিশিষ্ট ইহুদিকে বিশ্ববাসী চেনে। কেন চেনে ? ওনারা নিজস্ব পেশায় সর্বোচ্চ সফলতার পাশাপাশি, মানবতাবাদের পক্ষে কথা বলেন। বিশেষ করে নোয়ান চমস্কি, স্বজাতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে গিয়ে, প‍্যালেস্টাইনের পক্ষে সোচ্চার। ভালো কথা। সম্প্রতি ভারত সরকার,আফগানিস্তান-পাকিস্তান-বাংলাদেশ থেকে উচ্ছেদ হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সংখ্যালঘু(হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ-খ্রিষ্টান-জৈন-পার্সি) রিফিউজিদের নাগরিকত্ব দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিংহ বিক্রমে গর্জে উঠেছেন, নোয়ান চমস্কি ও জর্জ সরোস। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, এই সংখ‍্যালঘু রিফিউজিদের নাগরিকত্ব প্রদানের মধ্য দিয়ে, ভারতের ক্ষমতাসীন ভা জ পা সরকার, ভারতকে ফ‍্যাসিবাদী হিন্দুরাষ্ট্রে পরিনত করার পথে হাঁটছে। প্রশ্ন হচ্ছে, নোয়ান চমস্কির পরিবার এবং জর্জ সরোস স্বয়ং, ইউরোপ থেকে রিফিউজি হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নাগরিকত্ব নিলেন কেন? যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওনাদের নাগরিকত্ব না দিতো এবং ওনারা ইউরোপে ফিরে আসতেন, তাহলে ওনাদের কি পরিনতি হতো ? তাহলে হিটলারের নাৎসী বাহিনী যেভাবে ৬০ লাখ ইহুদি হত্যা করেছিল - ঠিক সেইভাবে নাৎসী বাহিনী ওনাদের জীবন্ত অবস্থায় কাবাব বানিয়ে, হাড্ডি-মাংস চিবিয়ে হজম করে ফেলতো। কেন ওনাদের নাৎসীরা ভক্ষণ করতো ? কেননা ওনারা সংখ্যালঘু ইহুদি। পাকিস্তান-বাংলাদেশ-আফগানিস্তান থেকে সংখ‍্যালঘুরা যদি ভারতে গিয়ে আশ্রয় না নিতো,তাহলে কি হতো? জিন্নাহর মুসলিম লীগ ও মোল্লা ওমরের তালেবানরা সংখ্যালঘু রিফিউজিদের জীবন্ত অবস্থায় কাবাব বানিয়ে হাড্ডি-মাংস চিবিয়ে খেতো। ইউরোপে যেরকম মুসলিনীর ফ‍্যাসিবাদ ;  ইহুদি-বিনাশকারী হিটলারের নাৎসীবাদ ; দক্ষিণ এশিয়ায় তেমনি মহম্মদ আলী জিন্নাহ ও মোল্লা ওমরের হিন্দু-বিনাশকারী মুসলিম লীগ ও তালেবান। ১৯৭১ সালে ইসলামী রাষ্ট্র বানানেআলা পাকিস্তানি মিলিটারি, পূর্ব পাকিস্তানে ২৭ লাখ নিরীহ-নিরস্ত্র হিন্দু হত্যা করেছে এবং ২ লাখ হিন্দু নারীকে শেষনিঃশ্বাস ত‍্যাগ করার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত যথেচ্ছ যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। যদিও হিটলারের নাৎসী বাহিনীর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নারী নির্যাতনের অভিযোগ শোনা যায় না ; কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু নারীরা 'মাল এ গনিমত' - এ পরিনত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে আছে। কিছুদিন আগে সিরিয়া ও ইরাকের সংখ্যালঘু ইয়াজেদি ও খ্রিষ্টান নারীদের পরিনতির কাহিনী সবার মনে থাকার কথা। উচ্চ প্রশিক্ষিত পাকিস্তানি ধর্মযোদ্ধারা, ভারতে ঢুকে গৃহশত্রু বিভীষণদের ছত্রছায়ায়, হিন্দু নারীদের গ‍্যাং রেপ করে চলেছে - যাতে ভারতকে ধর্ষক রাষ্ট্র প্রমাণিত করে, ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা যায়।

নোয়ান চমস্কি ও জর্জ সরোস সংখ‍্যালঘু ইহুদি হওয়ার কারণে, জন্মভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে, মহান দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসে নাগরিকত্ব নিয়েছেন । মহান দেশ ভারতে এসে আশ্রয় নিয়ে, সম্প্রতি যারা নাগরিকত্ব পেয়েছে - তারাও সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে প্রাণ বাঁচাতে, তিনটি ইসলামী রাষ্ট্র ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।  রিফিউজি ইহুদিদের নাগরিকত্ব দেওয়ায়, নোয়ান চমস্কি ও জর্জ সরোস কখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন নি যে, আমেরিকা  প্রোটেস্টাণ্ট রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে ; কিংবা আমেরিকার মহত্ত্ব লোপ পেতে চলছে ! উল্টো তখন ওনারা চেঁচিয়ে বলে বেড়িয়েছেন, নাৎসীবাদ-আক্রান্ত রিফিউজি-ইহুদিদের আশ্রয় দিয়ে, আমেরিকা মহানুভবতা প্রদর্শন করেছে। তাহলে তিনটি ইসলামী দেশ থেকে উচ্ছেদ হয়ে আসা সংখ্যালঘু রিফিউজিদের ভারত নাগরিকত্ব দেওয়ায় - নোয়ান চমস্কি ও জর্জ সরোস কেন বলছেন যে, হিন্দু রিফিউজিদের নাগরিকত্ব দিয়ে ভারত ফ‍্যাসিবাদী হিন্দুরাষ্ট্র হতে চলছে ! ইহুদী রিফিউজিদের নাগরিকত্ব দেওয়া যদি প্রশংসনীয় কাজ হয়, তাহলে হিন্দু রিফিউজিদের নাগরিকত্ব দেওয়া কেন নিন্দনীয় অপরাধের কাজ হবে ? হিন্দুরা কি মানুষ নয় ! নাৎসীবাদ কবলিত ইহুদিদের নাগরিত্ব দিয়ে আমেরিকা যদি মানবতাকে সমুন্নত করে ; তাহলে মুসলিম লীগ-তালেবান কবলিত  হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ায়, নোয়ান চমস্কি ও জর্জ সরোস ভারতের ক্ষমতাসীন ভা জ পা সরকারকে ফ‍্যাসিবাদী আখ‍্যায়িত করলেন কোন যুক্তিতে!

অনেকে নিশ্চয়ই বললেন,ইহুদি রিফিউজিদের নাগরিকত্ব দেওয়ায় - নোয়ান চমস্কি ও জর্জ সরোসরা ব‍্যক্তগত ভাবে লাভবান হয়েছেন ; হিন্দু রিফিউজিদের নাগরিকত্ব দেওয়ায়, ওনাদের তো কোন লাভ হয় নি ; বরং হিন্দু নামধারী বেইমানদের সাথে গলা মিলিয়ে, নোয়ান চমস্কি ও জর্জ সরোস যদি বিশ্বে হিন্দু-বিদ্বেষ ছড়িয়ে বেড়ান, তাতে হিন্দু জাতির শত্রুদের কৃপায় ওনাদের পকেট যে যথেষ্ট ভারী হবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তার মানে হচ্ছে - নোয়ান চমস্কি ও জর্জ সরোস সাহেবরা যে  মানবতাবাদের মুখোশ পরে আছেন, সেটা স্রেফ ভণ্ডামি ; ওনাদের কাছে ব‍্যক্তিগত আর্থিক লাভ - সবকিছুর ঊর্ধ্বে। ওনারা মোটেও মহানুভব ন'ন - চরম স্বার্থপর ও অর্থ-লোভী।

0/Post a Comment/Comments

যুক্তি সংগত কথা বলুন.................

Stay Conneted