ফেইসবুক ইউটিউব সহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার কমেন্ট সেকশনে একটা কমন কমেন্ট একদল লোক করে বেড়াচ্ছে এমন, " তুমি যদি প্রকৃত মুসলমান হও, তাহলে করোনা কে নয়, আল্লাহ কে ভয় করো!"
কোন কোন যায়গায় কেউ লিখে এইরকম, " করোনার ভয়ে আজকে মসজিদে যাওয়া ছেড়ে দিলে, কালকে করোনায় মারা গেলে আল্লাহর কাছে কি জবাব দেবে? ওহে মুসলমান, করোনা বড় না ইবাদত বড়?"
স্বাভাবিকভাবেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা করোনা কে খালিবালি করে দিবে।
এইবার তাদের ডেকে বলেন, এক লিটার কেরোসিন শরীরে ঢেলে নিতে। তারপর একটা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন, এইরকম লিখে... " আগুন নয়, আল্লাহ বড়! তাই আমি আগুনকে ভয় করি না। এবং সেটা প্রমাণের জন্য আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছি। আল্লাহ সহায় হোন! "
দেখুন কি অবস্থা!!! একজন লোক ও খুঁজে পাবেন না। সব হাওয়া হয়ে যাবে। কেউ কেউ আপনাকে মারতে ও আসবে। বলবে,
"ব্যাটা তুই পাগল হয়েছিস? আগুনের সাথে আল্লাহর তুলনা কি রে?? আল্লাহ অবশ্যই আমাকে বাঁচাবে। কিন্তু আল্লাহ এটাও বলেছে আগুন দেখলে নিভাতে। কারন আগুনের জ্ঞান বিবেক বুদ্ধি নেই। তার ধর্ম জ্বালানো। "
এইবার ওই বক ধার্মিক গুলোকে বলবেন, " হ্যা একজেক্টলি আমি সেটাই বলতে চাচ্ছি। আগুনের ধর্ম যেমন জ্বালিয়ে দেয়া, তেমনি ভাইরাসের ধর্ম রোগাক্রান্ত করা এবং মেরে ফেলা। দুইটার শুধু বাহ্যিক রূপের পার্থক্য। একটা জ্বলজ্বল করে জ্বলে, তাই দেখা যায়! আরেকটা এত ছোট যে, অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য লাগে দেখতে। "
কিন্তু দুইটাই বিপদ। আল্লাহ বলেন নি কোথাও তুমি বিপদ দেখলে তাতে ঝাপিয়ে পড়ো। আমি তোমাকে রক্ষা করবো।
এইরকম হলে মানুষ পাহাড় থেকে ঝাপিয়ে পড়তো, আগ্নেয়গিরির লাভায় লাফ দিতো, ভূমিকম্প জ্বলোচ্ছাস, বন্যা অথবা হিংস্র পশুর সামনে অটল দাড়িয়ে থাকতো।
কেন মানুষ এইসব দেখলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে? কারন এইগুলোর ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা আল্লাহ দেন নি।
আপনাকে আমাকে দিয়েছে।
তারপর ও যদি ঝাপিয়ে পড়েন আর বলেন করোনা নয় আল্লাহ বড়, তাহলে তা হবে আত্মহত্যা।
আর আত্মহত্যা করা জানেন তো মহাপাপ??
আর এতই যে আপনাদের ঈমানের জোর, তাহলে দেশে এত এত দুর্নীতি চুরি মজুদদারি খাদ্যে ভেজাল কারা দেয়? ৯০% মুসলমানদের দেশে??
আমাদের আবেগ, আমাদের ধর্মীয় চেতনা সবই লোকদেখানো। পাশাপাশি অশিক্ষা কুশিক্ষা আর মূর্খতাই পরিপূর্ণ।
আমাদের একজন আলেম বলেছে, করোনা আল্লাহর সৈনিক।
উনি কেনো বলেন নি, আগুন আল্লাহর সৈনিক? ভূমিকম্প আল্লাহর সৈনিক? সুনামি আল্লাহর সৈনিক?
কারন উনি জানেই না আগুন আর ভাইরাসের মাঝে যে আদৌ কোন পার্থক্য নাই।
এই না জানা কে অশিক্ষা বলে। অন্ধত্ব বলে। এইসব নিয়ে গর্ব করার কিছু নেই। এইসব লজ্জা। যেকোনো শিক্ষিত মানুষ মাত্রেই বুঝতে পারছেন আমাদের আলেমরা কতটা ভ্রান্ত, মূর্খ পশ্চাদপদ।
আমাদের ধর্মে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে ছোঁয়াছে রোগ নিয়ে! হাদিসে আছে স্পষ্ট, " কোন এলাকা মহামারী রূপ নিলে তোমরা সেখানে প্রবেশ করো না, সেখান থেকে কাউকে বাইরে আসতে দিও না"
অথচ গতকাল দেখলেন হাজার হাজার লোক লকডাউন উপেক্ষা করে আশেপাশের বিভিন্ন থানা জেলা থেকে জড়ো হয়েছিল। আদৌ কি উনারা ধর্ম সঠিক মানে?
বিদায়হজ্জের ভাষণে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ স্পষ্ট বলে গিয়েছেন, ভবিষ্যতে তোমরা যদি কখনো কোন সমস্যায় উপনীত হও, আর তার সমাধান কুরআন হাদিস থেকে না পাও, তাহলে ইজমা কিয়াসে খুজবে। সেখানে ও না পেলে বিভিন্ন আলেমদের সাথে পরামর্শ করে বের করে নিবে।
কিন্তু আজকে দেখুন আমাদের দেশের ভ্রান্ত কত আলেম! উনারা মক্কা মদিনার নির্দেশনা মানেন না। কেউ বলে করোনা মানে কালেমা নামাজ রোজা! কেউ বলে আল্লাহর সৈনিক। কেউ বলে করোনা মুসলমানদের জন্য না। আবার কেউ বলে করোনায় কোন মুসলমান মারা গেলে আল্লাহর কুরআন মিথ্যা হয়ে যাবে ( নাউজুবিল্লাহ)
শেষের বাণীটি যিনি দিয়েছেন তিনি আমির হামজা। অনেকেই চিনেন।
উনার বাণী যে ভুল, ৪/৫ দিন আগে একজন মুফতি করোনার মারা গিয়ে তা প্রমাণ করে গিয়েছেন।
কিন্তু তারপর ও উনাদের ঘাউড়ামি কমবে না। উনারা এবং উনাদের মতাদর্শের লাখ লাখ এমন ভ্রান্ত মানুষ আছেন যারা ধর্মের নামে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে শুধু ধর্মকেই ছোট করছেন না, লাখ লাখ আরো মানুষ কে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
কিন্তু উনাদের কেউ বুঝাতে পারবে না, জ্বলন্ত আগুন আর করোনা ভাইরাস একই জিনিস।
উপরন্তু উনারা করোনা ভাইরাস বড় না আল্লাহ বড় ( নাউজুবিল্লাহ) বলে ভাইরাস কে আল্লাহর সাথে তুলনা করার মতো পাপ করেই যাচ্ছেন।
Post a Comment
যুক্তি সংগত কথা বলুন.................