বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় বাঙালিদের একটা ফ্যান্টাসি আছে। তাদের কাছে বাংলাদেশ বাংলা ভাষা সংস্কৃতির রাজধানী। ধারণাটা খালি ভুল নয়, বোকামিও।
বাংলাদেশের ইতিহাস মূলত সুলতানী আমলের মুসলিম শাসন থেকে। এখানে নিজেদের গৌরব কীর্তি ধরা হয় ঈসা খাঁ, সিরাজদ্দৌলাদের মত অবাঙালীদের শাসনামলকে।
পূর্ব পাকিস্তানে একদম শুরু থেকে বাংলা ভাষায় সচেতনভাবে আরবি ফার্সি উর্দু আমদানি করা হয় মূলত হিন্দু বাঙালি থেকে নিজের সতন্ত্র করতে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নামটিও বাংলা নয়। পাকিস্তান আমলে বাংলা পত্রিকার নামগুলো হয় উর্দু নয় আরবিতে রাখা হত।
বাংলাদেশের কেবল ষাটের দশকে সচেতনভাবে বাংলা বাঙালি চেতনাকে সাহিত্য সংস্কৃতি আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সেটা এখন ইতিহাস। কারণ সে চেতনা বাংলাদেশ হওয়ার পর নিদারুণভাবে পরাজিত হয়েছিল।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও মুসলিম জাতি চেতনা হাতে হাত ধরে এগিয়েছে। নারী শিক্ষা বেড়েছে কিন্তু মেয়েদের পোশাক দেখলে হঠাৎ দেশটাকে পাকিস্তান আফগানিস্তান বলে ভ্রম হয়।
বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান পহেলা বৈশাখকে ইসলাম বিরোধী মনে করে। বাংলাদেশের যেসব মানুষ এইসব ইসলামীকরণের বিরুদ্ধাচরণ করেছে তারাই মৌলবাদীদের আক্রমণের শিকার হয়েছে যা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের সমর্থন পেয়েছে।
কোলকাতার মানুষদের বাংলাদেশ নিয়ে আদিখ্যেতা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ ভালো চোখে দেখে না। তারা এতে হিন্দুদের আধিপত্য হিসেবে সন্দেহ করেছে। অতিতে সুনীল সমরেশ শীর্ষেন্দুর বাংলাদেশ নিয়ে উচ্ছ্বাস বাংলাদেশের লেখক বুদ্ধিজীবীর কোপাণলে পড়েছিল।
বাংলাদেশ মূলত ইসলাম ও মুসলমানদের দেশ। এই দেশে বাংলা বাঙালি কেন্দ্র বলতে যা বুঝায় তা সম্ভব নয়। যদিও সব সম্ভাবনা বাস্তবতা বাংলাদেশের ছিলো। কিন্তু মুসলিম জাতি চেতনা এখানে কৃত্রিম একটা জিনিসের জন্ম দিয়েছে যা এক কথায় প্রকাশ করলে বলা যায় "আত্মপরিচয়ের সংকট "।
বাঙালি জাতীয়তাও ভালো কিছু নয়। হিন্দুর হাতে পড়লে এটা উচ্চ বর্ণের হিন্দুত্ব হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মুসলমান তো ধর্মীয় পরিচয়ে বাইরে যেতেই পারবে না।
বাংলাদেশের পাহাড়ে বাঙালি মুসলমান জাতীয়তাবাদ ফ্যাসিস্ট রূপ নিয়েছে। বাংলা ভাষা আদিবাসী ভাষাগুলোকে গ্রাস করেছে। যে কোন বাদই শেষতক কাল্ট হতে পারে।
ভারতীয় টিমে একজন বাঙালির অভাবে ভারতীয বাঙালিদের বাংলাদেশ টিমকে নিজেদের মনে করাটা আর বাংলাদেশের পাকিস্তান টিমকে মুসলমান বলে সমর্থন করার আইডিওলজি একই।
একশো বছর আগের বাঙালির সঙ্গে এখনকার বাঙালির কোন মিল নেই। শিক্ষিত মানুষের আস্তে আস্তে ধর্মীয় বা জাতিগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠা উচিত। সাম্প্রদায়িকতা কেবল ধর্মের হয় না। নৃতাত্ত্বিক, ভাষা, গায়ের রঙের সাম্প্রদায়িক তা দিয়েও পৃথিবীতে কম বিভেদ ঘটায় না।
Post a Comment
যুক্তি সংগত কথা বলুন.................